১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের লড়াই: ঠাকুরগাঁওয়ে তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঠাকুরগাঁও: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলার এক মহাযজ্ঞ। এই দেশ পুনর্গঠনের লড়াইয়ে ১৮ কোটি মানুষের সহযোগিতা ও অকুণ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল বড় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ২২ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে তারেক রহমানের আগমনে জনসভাস্থল ছাপিয়ে পুরো শহর এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ঠাকুরগাঁও ও বৃহত্তর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৪৬-এর তেভাগা আন্দোলনে এই জনপদের কৃষকদের বীরত্বগাথা আজও স্মরণীয়। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে জেলায় রূপান্তরিত হওয়ার পর এই অঞ্চলটি ক্রমশ আধুনিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তারেক রহমান তার বক্তব্যে এই দীর্ঘ ইতিহাসের যোগসূত্র টেনে বলেন, "১৯০০ সাল থেকে আজ ২০২৬ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ বারবার অধিকারের লড়াই করেছে। আমরা অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন সময় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার।" তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন দেশের প্রকৃত মালিক জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ।
বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত এক যুগে যুবকদের কর্মসংস্থান হয়নি এবং কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাননি। তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন:
কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড: কৃষকদের জন্য 'কৃষি কার্ড' এবং অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' চালু করা হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: নারী শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং গ্রামীণ মা ও শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ ‘হেল্প ডেস্ক’ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন: ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর সচল করা এবং এ অঞ্চলের বিখ্যাত চাল শিল্পকে আধুনিকায়ন করে রফতানিমুখী করার ঘোষণা দেন তারেক রহমান।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল বলেন, "তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশ আজ রাহুমুক্ত হওয়ার পথে। ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট বিপ্লব হবে সব ষড়যন্ত্রের শেষ জবাব।"
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুল হাবিব দুলু, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের প্রার্থী ডা. আবদুস সালাম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমানসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আসা জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি একা কিছু করতে পারবে না, আপনাদের শক্তির ওপর ভিত্তি করেই আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।"
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন ও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রচারণাকে তুলে ধরেছে। তারেক রহমানের এই ঠাকুরগাঁও সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তার বক্তব্যে কৃষি কার্ড ও বিমানবন্দর সচলের মতো আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যা ১৯০০ সাল থেকে চলা এই জনপদের আর্থ-সামাজিক বঞ্চনার অবসানের ইঙ্গিত দেয়
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |